ছাত্রলীগ কর্মীর লা`থিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়া ছন্দার ফেসবুক স্ট্যাটাস ভা\'ইরাল

দু'র্নীতির অ'ভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইস'লামের অ'পসারণ দাবিতে চলমান আ'ন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হা'মলায় গুরুতর আ'হত হয়েছেন মা'রিয়াম রশিদ ছন্দা নামের এক ছাত্রী।

জাবি আ'হত ছাত্রী মা'রিয়াম রশিদ ছন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধ'রা হলো-

‘৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) আজীবন মনে রাখবার মতো দিন। আ'ন্দোলনে গিয়েছিলাম সাংস্কৃতিক কর্মীর যে দায়বদ্ধতা থাকে সেখান থেকে, বিবেকের তাড়নায়। সবাই বলে দ্রোহের কবিতা আমা'র কণ্ঠে বেশ ভালো যায়, দ্রোহটা আমা'র স্বভাবজাত।’

‘অন্যায় দেখলে আমি চুপ করে থাকিনি কোনো দিন সেটি ঘরে বা বাইরে যেখানেই হোক। কিন্তু কাউকে অসম্মান, আ'ঘাত করা, হেয় করা আমা'র ধাতে নেই, আমি প্রতিবাদটাও ওই ভাষায়ই করি, সব সাংস্কৃতিক কর্মীও তাই করে। আমাদের শিক্ষা এই। ’

অথচ সেই আমাকেও বলা হলো শিবির এবং এভাবে আমা'র তলপেটে লা`থি দেয়াকে জাস্টিফাই করা হলো। আমা'র শিক্ষককে মাটিতে ফেলে পে'টানো হলো আমা'র বন্ধুকে পে'টানো হলো এবং সেখানে আম'রা মেয়েরা ব্যারিকেড দিলাম যেন স্যারের গায়ের আগে আমাদের গায়ে মা'র লাগে।

ঠিক তখন কুমিরের কা'ন্না দেখাতে ছাত্রলীগ এলো এবং স্যারকে উ'দ্ধারের নাম করে পা ধরে টেনে নিয়ে গেল এবং সেখান থেকে বিকাল পর্যন্ত তাকে হা*সপা*তালে নিতে দেয়নি।

‘এতদিন শুনেছি, অল্প-বিস্তর দেখেছি এদের তা'ণ্ডব; কিন্তু এই পরিস্থিতিতে না পড়লে কখনই জানতাম না এরা আসলে কী'! আমি কিছুই বলব না, কাউকে অ'ভিশাপ দেব না, রাগ করব না, আমি সব ভুলে যাব সত্যি বলছি কেবল এইটুকু স্মৃ'তি ছাড়া।’

‘যারা এই হা'মলা নেতৃত্ব দিলেন, নীরব সম'র্থন দিলেন এবং এত কিছুর পরও প্রতিবাদ করলেন না আজকের পর থেকে আপনাদের চোখের দিকে তাকাতে আমা'র ইচ্ছা করবে না, যে সকল মহান শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র, বন্ধু, জুনিয়ররা ন্যায়ের পেটে লা`থি মা'রলেন, সত্যের পেটে লা`থি মা'রলেন, পাজর ভাঙলেন আমি তাদের সবিনয়ে অনুরোধ করছি- আপনাদের সঙ্গে আমা'র হৃদয়ের বন্ধন কে'টে গেছে, ক্যাম্পাসে হয়তো আর এক বছর দেখব বড়জো'র, আমাকে ফেসবুক থেকে এখনই রিমুভ করে দিন।

আপনাদের প্রত্যেককেই আমি চিনি, এ ঘটনার পর আপনাদের ফেসবুক বন্ধু হয়ে থাকার কোনো ইচ্ছে আমা'র নেই।

দুপুর ১২.৩০ মিনিট থেকে এ পর্যন্ত ৩ বার পেইনকিলার দেয়া হলো, ব্যথাটা কমছে না, আমা'র পাশের ওয়ার্ডে আমা'র বন্ধু, জুনিয়র কাতরাচ্ছে। এই ব্যথা নিয়েও তাই লিখলাম। সত্যি বলছি- আপনাদের আমা'র প্রয়োজন নেই। আমি আমা'র প্রিয়জনদের চিনে গেছি, আমি আমা'র মানুষ চিনে গেছি।

শুনে রাখু'ন এ ব্যথাই এদের শক্তি, এই ব্যথাই এদের বহুদূর নিয়ে যাবে। আর মনে রাখু'ন যে আ'গুন মিটমিট করে জ্বলছিল একজনের মনে, সে আ'গুন একসময় দপদপিয়ে উঠল সবার মাঝে। একবার সবার মাঝে আ'গুন জ্বলে উঠলে মূল মিটমিটে আ'গুন না থাকলেও সমস্যা নেই।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে আ'ন্দোলনকারীদের ওপর অ'তর্কিত হা'মলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

হা'মলায় পাঁচ নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩৫ আ'হত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আ'হতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

এদিকে মা'রিয়াম ছন্দাকে হা'মলার একটি ভি`ডিও যুগান্তরের কাছে এসেছে।

ভি`ডিওতে দেখা যাচ্ছে, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে হা'মলার শিকার মা'রিয়াম মাটিতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। এ সময় অন্যরা তাকে ধ'রাধরি করে হা*সপা*তালে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

মা'রিয়ামের এক বন্ধু ঘটনাস্থল থেকে যুগান্তরকে জানান, ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্ম'দের ওপর হা'মলা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এ সময় তাকে বাঁ'চাতে এগিয়ে যায় সরকার ও রাজনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী মা'রিয়াম রশিদ ছন্দা। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগের এক কর্মী মা'রিয়ামের পেটে লা`থি মা'রেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে আ'ন্দোলকারীরা তাকে উ'দ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হা*সপা*তালে ভর্তি করা হয়।