থার্ড ক্লাস পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বি’রুদ্ধে মা’মলা ঠুকলেন এই পাকিস্তানি

কোনোরকমে থার্ড ক্লাস পেয়ে পাশ করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়কে দুষলেন এক পাকিস্তানি শিক্ষার্থী।

শুধু দোষই দিলেন না, কেন তিনি এমন ফলাফল করলেন সে ক্ষোভ মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নামে দুই লাখ পাউন্ড (বাংলায় ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করে মা’মলাও ঠুকলেন।

সম্প্রতি গ্রেট ব্রিটেনের অংশ ইউরোপীয় দেশ ওয়েলসের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের বি’রুদ্ধে এমন মা’মলা ঠুকেছেন ওম’র রিয়াজ নামের এক পাকিস্তানি শিক্ষার্থী।

ওয়েলস অনলাইন জানিয়েছে, অনেক আশা নিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ওম’র রিয়াজ।

পরীক্ষায় বারবারই ফেল করছিলেন তিনি। একাধিকবার ফেল করার পর অবশেষে পাশের মুখ দেখেন রিয়াজ। তবে তাও বলার মতো ছিল না। কোনোরকমে তৃতীয় শ্রেণীতে পাস করে মুখ রক্ষা করেন ।

কিন্তু আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষেপে যান রিয়াজ।

কেন এমন ফলাফল হলো তার, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে দুই লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করে মা’মলা করেছেন ।

তবে রিয়াজের মা’মলাকে আমলেই নেয়নি স্থানীয় আ’দালত। তার ওই মা’মলাকে খারিজ করে দিয়েছেন কার্ডিফ কাউন্টি আ’দালত।

কিন্তু এখনো হাল ছাড়েননি ওম’র রিয়াজ। তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে দাবি করে উচ্চ আ’দালতে যাবেন বলে জানান রিয়াজ। নিজের ‘অধিকার’ ফিরে পেতে প্রয়োজনে জাতিসংঘে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে ওয়েলসের স্থানীয় একসংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইস’লামাবাদ থেকে এসে ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন রিয়াজ। কিন্তু প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন তিনি। তাতে এক বছর পিছিয়ে যায় তার পড়াশুনা। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেননি রিয়াজ। এর ফলে তার পড়াশুনা আরও পিছিয়ে। একসময় তার রেজিস্ট্রশনের সর্বোচ্চ সময়সীমাও পেরিয়ে যায়। কিন্তু অনার্স শেষ বর্ষে এসে কোনো মতে পাস করলে ডিগ্রি পাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় ক্রেডিট সংগ্রহে ব্যর্থ হন রিয়াজ। একারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নামে মা’মলা করেন রিয়াজ।

এদিকে মা’মলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ওমা’র রিয়াজ বলেছেন, আমি ল’ড়াই চালিয়ে যাবো। দরকার হলে এটি আরও ওপরে, এমনকি জাতিসংঘে নিয়ে যাব। এ অন্যায় আমি সহ্য করব না। প্রতিবাদ করে যাবই।

ওম’র রিয়াজের দাবি, পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো ছিলেন তিনি। পাকিস্তানে ইংরেজি কোর্সেও পাস করেছেন।

তৃতীয় শ্রেণিতে পাসে কেন ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এমন প্রশ্নে পাকিস্তানি এই যুবক বলেন, সাধারণ একটা পাসে আমা’র কিছুই হবে না। আমি জৈব রসায়নে পিএইচডি করতে চাই। আমি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির আবেদন করেছিলাম। আমাকে চাকরি দেবে বলে ইতালি ও জার্মানি থেকে সাড়াও পেয়েছি। কিন্তু এমন ফলাফলে ওইসব চাকরির জন্য আমি এখন যোগ্যই নই। এর জন্য আমা’র অর্জিত ক্রেডিট যথেষ্ট নয়। আমা’র ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিল বিশ্ববিদ্যালয়।

ওম’র রিয়াজের এমন সব দাবি ও মা’মলা কতটা যৌক্তিক যে বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসের এক মুখপাত্র বলেন, আম’রা রিয়াজের সব অ’ভিযোগই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। তবে তার সমস্ত দাবি ও অ’ভিযোগ আম’রা প্রত্যাখান করেছি। কারণ আম’রা যথাযথ মান বজায় রাখতে সবসময় সচেষ্ট। আমাদের সব প্রক্রিয়াই সুষ্ঠু ও নিখুঁতভাবে করা হয়েছে।