স্তন কে'টে দেওয়া ভয়ঙ্কর ‘জাবের বাহিনী’, আতঙ্কিত গ্রামাবসী!

একদা নিষিদ্ধ পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম.এল) তথা চরমপন্থী এবং জ'ঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)’ উত্থানের ‘আতুরঘর’ ছিল রাজশাহীর বাগমা'রা।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সন্ত্রস্ত্র জনপদের গল্পও পাল্টে যায়। র'ক্তাক্ত জনপদে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। সেই জনপদে (বাগমা'রা) এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ‘জাবের বাহিনী’।

আ'লোচিত ‘জাবের বাহিনী’র অব্যাহত চাঁদাবাজি, হু`মকি-ধামকি ও নি'র্যাতনে অ'তিষ্ট উপজে'লার বাসুপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ। কিন্তু ভীতসন্ত্রস্ত্র মানুষ ‘জাবের বাহিনী’র বি'রুদ্ধে মুখ খোলারও সাহস পায় না।

এছাড়া বাগমা'রা উপজে'লা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা ম'দদ দেওয়ায় বাহিনী প্রধান জাবের আলীর বিষয়ে থানা পু'লিশের ভূমিকাও র'হস্যজনক বলে অ'ভিযোগ উঠেছে।

এলকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ‘জাবের বাহিনী’র বি'রুদ্ধে এমনকি নারীর স্তন কে'টে নেওয়ার অ'ভিযোগ রয়েছে। ভূক্তভোগী ওই নারী বীরকয়া গ্রামের মোবারকের স্ত্রী' আঞ্জুরী বেগম (৩৫)। তার ডান স্তন কে'টে দেয় জাবের বাহিনীর সদস্যরা।

সে নি'র্যাতনের প্রতিবাদ করেছিলেন বীরকয়া গ্রামের মোবারক হোসেন (৪৫)। প্রতিবাদ করার কারণে গত ৩ ডিসেম্বর মোবারক হোসেনকে পে'টায় জাবের বাহিনী। তিনি এখন পঙ্গু জীবন যাপন করছেন।

ভুক্তভোগী আঞ্জুরী বেগম জানান, ঝগড়ার সময় প্রতিবেশী তাকে জাবের বাহিনীর নামে ভয় দেখায়। ওইসময় তিনি জাবের আলীকে গালাগাল করেন।

এর জেরে পরের দিন ভোরে তার বাড়িতে হা'মলা হয়। স্বামী পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করলেও তাকে ব্যাপক নি'র্যাতন সইতে হয়। এক পর্যায়ে বাহিনীর সদস্যরা ধারালো অ'স্ত্র দিয়ে তার ডান স্তন কে'টে দেয়।

এ ঘটনায় মা'মলা করলে হ'ত্যার হু`মকি দেয় জাবের আলী। এ কারণে মা'মলা করার সাহস পাননি।

অন্যদিকে নির্যাতিত মোবারক জানান, তার মায়ের কুলখানি ছিল ৫ ডিসেম্বর। ৩ ডিসেম্বর কুলখানির অনুষ্ঠানের বাজার করতে বটতলায় যাচ্ছিলেন। পথে জাবের বাহিনীর সদস্যরা তাকে মন্দিয়াল গ্রামে তুলে নিয়ে বাহিনী প্রধান জাবেরের নেতৃত্বে তার পা ভেঙ্গে দেয়। পরে ভ্যানে বাড়ি পাঠিয়ে দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে হা*সপা*তালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় তার স্ত্রী' নাজমা বাদী হয়ে জাবের আলীসহ ১৪ জনের বি'রুদ্ধে থানায় মা'মলা করেন (মা'মলা নং ৪, তাং- ০৩/১২/১৯ইং)। কিন্তু আ'সামিরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হা*সপা*তালে গিয়ে তাকে হ'ত্যার হু`মকি দেয়। পরে তিনি হা*সপা*তাল থেকে পালিয়ে গো'পনে ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। কিন্তু জাবের বাহিনীর ভয়ে এখনো গ্রামে ফিরতে পারেননি তিনি।

আরেক নির্যাতিত কুতুবপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, জাবের বাহিনী সদস্যরা জ্যোতিনগঞ্জ বাজারে নি'র্যাতন চালিয়ে তার পা ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু তিনিও মা'মলা করতে পারেননি ভয়ে।

কে এই জাবের আলী?

বাহিনীর প্রধান জাবের আলী (৪৫) উপজে'লার বাসুপাড়া ইউনিয়নের মন্দিয়াল গ্রামের মৃ'ত বুদাই গাইনের ছেলে। স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফর রহমানের দোকানের সাবেক কর্মচারী জাবের পরে শুট'কি মাছসহ অ'বৈধ ব্যবসা এবং বিল ও পুকুর দখল করে কয়েক বছরে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, গত ১৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় পু'লিশ উপজে'লার জ্যোতিনগঞ্জ বাজার থেকে জাবের আলীকে গ্রে'প্তার করে। এ সময় বাহিনীর সদস্যরা পু'লিশের ওপর হা'মলা চালিয়ে জাবের আলীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হা'মলায় পু'লিশের এসআই সৌরভ কুমা'র ও এএসআই মোসলেম আলী আ'হত হন। পরে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

বাসুপাড়া ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জানান, জাবের আলী এলাকার ত্রাস। বিভিন্ন ঘটনায় তার বি'রুদ্ধে বাগমা'রা থানায় অন্তত ১০টি মা'মলা রয়েছে। যার চারটি বর্তমানে আ'দালতে বিচারাধীন। তার ভয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই অ'বৈধ বাহিনীর বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা র'হস্যজনক বলেও দাবি করেন তিনি।

বাগমা'রা থানার এসআই সৌরভ কুমা'র বলেন, ‘জাবের আলী একাধিক মা'মলার আ'সামি। বীরকয়া গ্রামের মোবারক হোসেনের স্ত্রী' নাজমা'র মা'মলা ত'দন্তে গিয়ে জাবের আলীকে গ্রে'প্তার করা হয়েছিল। কিন্তু তার সহযোগীরা তাকে পু'লিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এখনও জাবের আলী দিনে পলাতক থাকে। কিন্তু রাতে লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হু`মকি দিয়ে আসছে।

বাগমা'রা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, পলাতক জাবের আলীকে গ্রে'প্তারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু আ'সামি প্রতিদিন স্থান পরিবর্তন করায় গ্রে'প্তারে বিলম্ব হচ্ছে।

সুত্র: ইত্তেফাক।