Wednesday , April 25 2018
Breaking News

যে কারণে মার্ক জাকারবার্গ ম্যাসেজ দিচ্ছেন সবাইকে! স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল

পহেলা বৈশাখের দিন সকাল সকাল ফেসবুকে লগইন করেই চমকে গেল সাদ্দাম। ২২টা মেসেজ এসেছে! রাতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছে সে। তার মানে ফেসবুক থেকেও দূরে ছিল ওই চার ঘন্টাই। আর সেই চার ঘণ্টার মধ্যেই ২২ জন তাকে মেসেজ পাঠিয়েছে! নিশ্চয়ই নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে। তারমানে এতগুলো মানুষ তার শুভাকাঙ্ক্ষী। ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে গেল সাদ্দামের। মনে মনে ভাবল, দেখি তো কারা কারা আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছে। একে একে সবাইকে খুব সুন্দর করে রিপ্লাই দেব। কিন্তু ইনবক্স ওপেন করে সাদ্দাম যা দেখল তার জন্য সে একদমই প্রস্তুত ছিল না।

কয়েকটা মেসেজ সত্যিই নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছিল হয়ত, কিন্তু অন্যান্য বেশিরভাগ মেসেজই শুরু হয়েছে ‘Hi I am Mark Zuckerberg The Director of facebook…’ দিয়ে। এর মানে কী, ভেবে পেল না সাদ্দাম। তার ফ্রেন্ডলিস্টের এতগুলো মানুষ এক রাতের মধ্যে ফেসবুকের ডিরেক্টর মার্ক জাকারবার্গ হয়ে গেছে? এ-ও কি সম্ভব! এসব ভাবতে ভাবতেই একটা মেসেজ ওপেন করল সে। এবং সেখানে সে যা দেখতে পেল, তা পড়ে তার গা হাত-পা আরও ঠান্ডা হয়ে গেল।

মেসেজে লেখা আছে, এখন থেকে নাকি আর ফেসবুক ফ্রিতে চালানো যাবে না। ফেসবুক ব্যবহার করতে গেলে টাকা কেটে নেবে। কিন্তু সে যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে এই মেসেজটি ফরওয়ার্ড করে, তবে হয়ত সে বরাবরের মতই ফ্রিতে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে। এসব পড়ার পর সাদ্দামের তো মাথা খারাপ হওয়ার মত অবস্থা। সে আর আগে-পিছে কিছু চিন্তা না করে তার ফ্রেন্ডলিস্টে ঘনিষ্ট, কম ঘনিষ্ট, একেবারেই অপরিচিত যত মানুষ আছে, সবাইকেই একে একে মেসেজটা পাঠিয়ে দিল। এবং তারপর কিছুটা নিশ্চিন্ত বোধ করতে লাগল। যাক, এবারের মত হয়ত সে তার বিচক্ষণতা ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে নিজের ফেসবুক আইডিটা রক্ষা করতে পারল।

প্রিয় পাঠক, উপরের সাদ্দামের সাথে কি আপনারা নিজেদের কিছুটা হলেও মিল খুঁজে পাচ্ছেন? না, আমি বলছি না যে সাদ্দামের মত আপনারা সকলেই ফেসবুকে যেকোন মেসেজ পেলেই সাথে সাথে সবাইকে সেটা ফরওয়ার্ড করতে লেগে পড়েন। কিন্তু আপনাদের আশেপাশের সব মানুষ তো আর সেরকম নয়। মানুষ জন্মগতভাবেই অতি উৎসাহী। আর তাই আপনাদেরকেও প্রায়সই এ ধরণের মেসেজের উৎপাত সহ্য করতে হয়।

মার্ক জাকারবার্গের নামে যে মেসেজটি এই মুহূর্তে অনলাইনে ভাইরাল, সেটাও নিশ্চয়ই অন্তত একজন হলেও আপনাদেরকে পাঠিয়েছে। এ ধরণের মেসেজের একটা খুবই কমন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছেন কি? এ ধরণের মেসেজ যে শুধু আপনাকে পড়তে বলা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। পাশাপাশি আরেকটা বিষয়েও জোর দেয়া হচ্ছে। সেটা হলো, মেসেজগুলো যেন আপনি আরও দশ-পনেরো-বিশ জনকে ফরওয়ার্ড করেন। অনেকটাই তিন গোয়েন্দা সিরিজের ভূত থেকে ভূতের মত। এ ধরণের মেসেজের শেষে আরও মানুষকে মেসেজটা ফরওয়ার্ড করতে বলার পেছনে উদ্দেশ্য হলো, এক সময়ে যেন মেসেজটা পুরো ফেসবুকেই ছড়িয়ে পড়ে। আর তাই এই ধরণের মেসেজকে বলা হয়ে থাকে ‘চেইন লেটার’ বা ‘চেইন মেসেজ’।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরণের চেইন লেটার ছড়ানো হয়ে থাকে স্রেফ মজা করার জন্য। যেমন কেউ একজন হয়ত অবসর সময়ে নিছকই খেয়ালের বশে লিখল, ‘এই মেসেজটা আপনার পরিচিত দশজনকে পাঠান, তাহলে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পাবেন। গতবছরও এভাবে অনেকেই গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। কিন্তু একজন মেসেজটা ইগনোর করেছিল, সে এখন কারওয়ান বাজারে আলু-পটল বেঁচে।’ লেখার ভাষা থেকেই বোঝা যায়, মেসেজটা লেখা হয়েছে কেবলই বিনোদনের উদ্দেশ্যে। এবং সেই বিনোদন পেতেই মানুষজন সেটাকে শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করতে থাকে, যার ফলে মেসেজটা কয়েকদিনের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।

মার্ক জাকারবার্গ সংক্রান্ত মেসেজটাও যে ভুয়া এবং কেবলই মজা নেয়ার উদ্দেশ্যে রচিত, সেটাও কিন্তু যেকোন সচেতন ব্যক্তির এক নজর দেখেই বুঝে যাওয়ার কথা। খেয়াল করে দেখবেন, মেসেজটাতে বিরাম চিহ্নের ব্যবহারে অসংখ্য ভুল। পাশাপাশি কোথায় বড় হাতের অক্ষর হবে, কোথায় ছোট হাতের অক্ষর হবে, সেসবও ঠিক নেই। লেখার ভাষাও ঠিক অফিসিয়াল না। সবমিলিয়ে ওটা যে ভুয়া, তা ধরতে খুব একটা অসুবিধা হবার কথা নয় কারোই। কিন্তু তারপরও দুঃখের বিষয়, আমাদের আশেপাশে এমন অনেক ব্যক্তিই আছে যারা খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করেই এইসব মেসেজ শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করতে শুরু করে দেয়, যার ফলে বিনোদনের খোরাক পেয়ে যায় এগুলোর নির্মাতারা। তারা উৎসাহিত হয় ভবিষ্যতে এমন আরও ভুয়া কোন মেসেজ ছড়ানোর।

তবে এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কেউ যদি আপনাকে ঠকিয়ে বা বোকা বানিয়ে মজা নিতে চায়, কিন্তু তাতে আপনার বড় কোন ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকে, তাতে আপনার কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো, এই ধরণের চেইন লেটারের মাধ্যমে অনেক সময়ে আপনার, কিংবা আরও বড় করে বলতে গেলে একটা পুরো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করাও সম্ভব। যেমন অনেক চেইন লেটারে ক্ষতিকর ভাইরাস থাকে, যা ওপেন করলে আপনার ডিভাইস তো নষ্ট হবেই, পাশাপাশি সেটা ফরওয়ার্ড করলে আরও অনেকেরও ডিভাইস নষ্ট হয়ে যাবে। কিংবা অনেক সময়ে এ ধরণের চেইন লেটারের মাধ্যমে আপনাকে হয়ত লটারির মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তির প্রলোভন দেখানো হবে। আপনি ফাঁদে পড়ে এমন কিছু একটা করে বসবেন, যেমন আপনার ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার তাদেরকে দিয়ে বসবেন বা তাদের নাম্বারে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেবেন, যার ফলে আপনি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।