Thursday , April 26 2018

গুজব ছড়ানো ৩০ অ্যাকাউন্ট শনাক্ত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অজ্ঞাত সংখ্যক লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এজন্যে প্রাথমিকভাবে ফেসবুকের দুশোটির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করা হচ্ছিলো। কিন্তু গত দু দিনের তদন্তের পর এখন এই সংখ্যা এখন প্রায় ৩০টিতে নেমে এসেছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মৃত্যু ও রগ কাটার মতো মিথ্যা তথ্য প্রচার করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যারা সহিংস করে তুলেছে তাদেরকে খুঁজে বের করার কাজ চলছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ফেসবুক পেইজ, ফেসবুকে ও টুইটারে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং কিছু অনলাইন পোর্টাল।

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার রমনা থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কারও নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির নাম এবং পোস্টও যুক্ত করা হয়েছে।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক বিষয়। কিন্তু কিছু লোক যখন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ফেসবুকের অপব্যবহার করে সহিংসতায় প্ররোচণা দেয় তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তারা বলছেন, পুলিশের গুলিতে আবু বকর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃত্যু এবং আন্দোলনের বিরোধিতা করায় এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে এরকম মিথ্যা খবর রটিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে সহিংস করে তোলা হয়েছিলো।

আবু বকরের মৃত্যু হয়েছে বলে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে কিন্তু এই খবরের কোন সত্যতা নেই। তিনি শুধু তার চোখের কোণে সামান্য আঘাত পেয়েছেন, বলেন নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এছাড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলায় একজন ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই খবরেরও কোন ভিত্তি নেই।

যার পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে রটানো হয়েছে, সেই ছাত্রীই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, রাগ উঠে যাওয়ায় তিনি লাথি মেরেছিলেন এবং তখন তার পা কেটে যায়, বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

পুলিশ বলছে, আবু বকরের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর পরেই আন্দোলনকারীরা সহিংস হয়ে উঠে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে ঢুকে সেখানে ভাঙচুর চালায়।

নাজমুল ইসলাম বলেন, এসব মিথ্যা খবর রটিয়ে যারা হিংসাত্মক কার্যকলাপে প্ররোচনা যুগিয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করারই কাজ চলছে।

তিনি জানান, গুজব রটানোর অভিযোগে প্রথমে তারা ফেসবুকের ২০০টির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করেছিলেন। সেসব প্রোফাইল তারা খতিয়ে দেখেছেন। দেখার চেষ্টা করেছেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কারা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব মিথ্যা সংবাদ রটিয়েছে। এখন এই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০টির মতো।

আমরা এখন এই আইডিগুলো নিয়ে কাজ করছি। এসবের পেছনে আসলেই যারা আছে তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।