Thursday , April 26 2018

‘টাকা টা বিছানার নীচে রাখা ছিল’

ভারতের দিল্লিতে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী পুলিশের কাছে একটি টাকার বান্ডিল এনে বলে টাকাটা বিছানার নীচে রাখা ছিলো। সে অভিযোগ করেছে যে তার বয়ান বদল করে ‘বিষয়টি মিটিয়ে’ নেওয়ার জন্য তার বাবা-মা অভিযুক্তদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। ১৫ বছরের ওই কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবা পলাতক।

গত বছর অগাস্ট মাসে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল ওই কিশোরীর ওপরে। পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছিল ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের। কিন্তু তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছে।

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই কিশোরী জানিয়েছে, তারপর থেকেই অভিযুক্তদের তরফ থেকে তার বাবা-মায়ের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে টাকা নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে। “ওই কিশোরী বলেছে তার বাবা মা চাপ দিচ্ছিল আদালতে তার বয়ান বদল করতে। কুড়ি লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা হয়েছিল ধর্ষিতার পরিবারকে। অগ্রিম হিসাবে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে গিয়েছিল মেয়েটির বাবা-মায়ের কাছে,” বলছে দিল্লি পুলিশ। সে বয়ান বদল করতে না চাওয়ায় বাবা মা তাকে মারধরও করেছে। এমন কি একটা ঘরে তালাবন্ধ করে রেখে দিয়েছিল।

বাবা মা যখন বাড়িতে ছিলেন না, সেই সময়ে ওই মেয়েটি বাড়িতে রাখা নগদ টাকার বান্ডিল নিয়ে প্রেম নগর পুলিশ ফাঁড়িতে হাজির হয়।

আউটার দিল্লি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এন তিওয়ারী বলছেন, “প্রথমে ফাঁড়ির ডিউটি অফিসারকে ওই কিশোরী জানায় যে তার কাছে কাগজে মোড়া তিন লক্ষ টাকা রয়েছে। অভিযুক্তরা ওই টাকা দিয়েছে তার বাবা-মাকে, যাতে সে আদালতে বয়ান বদল করে। টাকাটা বিছানার নীচে রাখা ছিল। বাবা মা কাজে চলে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগে ওই কিশোরী টাকার বান্ডিল নিয়ে পুলিশের কাছে হাজির হয়।” পরে অবশ্য গুনে দেখা যায় যে ওই বান্ডিলে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা রয়েছে।

ওই কিশোরী পুলিশকে আরও জানিয়েছে, ধর্ষণে অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই তার ওপরে বয়ান বদলের জন্য চাপ দিতে শুরু করে বাবা মা।

মি. তিওয়ারী জানিয়েছেন, “মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবা-মা এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। মাকে গ্রেপ্তার করা গেছে, কিন্তু তার বাবা পলাতক রয়েছে।”

২০১৬ সালের অগাস্ট মাসে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ পরে সে বাড়ি ফিরে আসে, আর অভিযোগ করে যে তাকে আটকিয়ে রেখে গণ ধর্ষণ করা হয়েছে। ওই এক সপ্তাহ ধরে তাকে নয়ডা আর গাজিয়াবাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও সে অভিযোগ জানিয়েছিল পুলিশের কাছে।

তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকারই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তারপর থেকেই বয়ান বদল করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, ঘুষও দেওয়া হয়েছে বাবা মাকে।

পুলিশ বলছে, এধরণের ঘটনা খুবই বিরল। নানা সময়ে ধর্ষণের শিকার মেয়েদের দিক থেকে সমাজ মুখ ফিরিয়ে নিলেও সাধারণত দেখা যায় যে বাবা মা অন্তত তার পাশে আছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অভিযুক্তর কাছ থেকে ঘুষ নিলেন বাবা মা, বয়ান বদলে চাপ দিলেন, এটাই আশ্চর্যের। সূত্র: বিবিসি