Thursday , April 26 2018

‘ভাইকে তো আমরা আর ফিরে পাবো না’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে নির্বাক বসে রাজীব হোসেনের কিশোর দুই ভাই আব্দুল্লাহ হৃদয় ও মেহেদী হাসান। সঙ্গে তাদের মামা জাহিদুল ইসলাম। তারা অপেক্ষা করছেন রাজীবের ময়নাতদন্তের জন্য।

সোমবার (১৬ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দুই বাসের পাল্লায় হাত হারানা রাজীব হোসেন। এরপর তার মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজীবের ছোট দুই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন একটি অনলাইন নিউজের প্রতিবেদক।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে আব্দুল্লাহ হৃদয় ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে মেহেদী হাসান।

মেহেদী হাসান বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ভাই মারা গেলেন। আমাদের খরচ দিতেন তিনি। ভাইকে তো আমরা আর ফিরে পাবো না।’

রাজীবের ছোট আরেক ভাই আব্দুল্লাহ হৃদয় বলে, ‘আমরা দুই ভাই লেখাপড়া করি। আমাদের বাবা-মা নেই। ভাইও নেই। সরকার যদি আমাদের খরচ দিত তাহলে পড়ালেখা ভালোভাবে শেষ করতে পারতাম।’

গত ৩ এপ্রিল কারওয়ানবাজারে দুই বাসের পাল্লায় সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীবের ডান হাত বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পথচারীরা তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তাকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়।

হাতে আঘাতের পাশাপাশি রাজীব মস্তিষ্কেও আঘাত পান। গত সপ্তাহে রাজীবের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

২০০৭ সালে রাজীবের বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি তার দুই ভাই আবদুল্লাহ হৃদয় (১৪) এবং মেহেদী হাসান বাপ্পীর (১৫) অভিভাবক ছিলেন। রাজীব তার মাকে হারান যখন তার বয়স ছিল আট বছর এবং তার ছোট ভাইয়ের বয়স ছিল ১০ মাস। এরপর থেকে আত্মীয়-স্বজনরা তাদের দেখভাল করতেন।

২০১২ সালে এইচএসসি পাস করার পর রাজীব তার ভাইদের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার জন্যে গ্রাফিক ডিজাইনিংয়ের কাজ শুরু করেন। এই উপার্জনে তিনি তার লেখাপড়ার খরচ যোগাতেন পাশাপাশি দুই ভাইয়ের ব্যয় বহন করতেন।