Monday , April 23 2018

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের কাণ্ড, বিএনপি নেত্রীকে আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতন!

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেত্রী তাছলিমা বেগমকে ঘরে আটকে রেখে রাতভর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার(৩ এপ্রিল)দিবাগত রাতে উপজেলাল উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটনের নির্দেশে তার বোন জামাই, ভাগিনা ও ভাতিজা মিলে স্থানীয় কাজী বাড়িতে আটকে রেখে ৪ নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেত্রীকে সারারাত শারীরিক নির্যাতন করেছে। এমন অভিযোগ করেন বিএনপি নেত্রী।পরে প্রায় ৫০টি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষরের পরে ছেড়ে দিলে নেত্রী ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিনি এখন সদর হাসাপাতলে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ৬৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছে। তিনি উপজেলা মহিলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।

চিকিৎসাধীন তাছলিমা বেগম বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে ৪,৫,৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচন করেছিলেন। তাকে প্রতিপক্ষ গ্রুপ জোড় করে হারিয়ে দিয়েছে। সেই থেকেই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটন তার বিরোধীতা করে আসছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছে যাওয়ার পরে এক অপরিচিত মহিলা তাকে নির্জনে ডেকে নিলে ৪ থেকে ৫ জন পুরুষ নেত্রীকে বেধরক পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ সময় তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে পালাতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে আবার ধরে নিয়ে কাজী বাড়ি নিয়ে যায়। পরে হাত-পা বেধে সারারাত নির্যাতন করে। লাথি, ঘুষি, চড়-থাপ্পর মারে। পরে বিএনপি নেত্রী সন্ত্রাসীদের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে প্রায় ৫০টি স্টাম্পে স্বাক্ষর রেখে মুক্তি দেয়। ওই অবস্থায় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

তাছলিমা বেগম আরও বলেন, আমার একটাই দোষ, আমি বিএনপি করি। আমার স্বামী নেই। ছয়টি সন্তান। সুযোগ পেলেই চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে বিপদে ফেলছে। গত মঙ্গলবার রাতে চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটনের লোকজন তাকে হত্যার জন্য এ নির্যাতন চালায়। পরে কাউকে কিছু বলার শর্র্তে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছি।

ভোলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নিরুপম বলেন, তাছলিমাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরের কয়েকটি স্থানে সেলাই লেগেছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উত্তর জয়নগরের চেয়ারম্যান ইয়াছির লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনারা তদন্ত করে দেখেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি জানিও না কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পরে তাছলিমা বেগম আমার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করেছে। সে কাজি বাড়ি থেকে স্বর্ণঅলংকার ও মোবাইল নিয়ে পালানোর সময় এলাকার লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। আমি ও আমার ইউনিয়নের কোনো গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিম