Thursday , April 26 2018

কেন ভাঙছে ২০ দল?

২০ দলীয় জোট ভাঙা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দীর্ঘদিনের এই দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক জোট কেন ভাঙছে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা। ২০ দলের শরিকরা বলছে, বিএনপি তাদের অবজ্ঞা, অবহেলা করছে। অন্যদিকে নিরুত্তাপ বিএনপি বলছে, ২০ দলে যারা আছে, তারা বিএনপির ছায়া ছাড়া অস্তিত্বহীন।

বাংলা ইনসাইডার ২০ দলের অনৈক্য, অবিশ্বাস আর মতবিরোধের কারণ অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানে ২০ দলের ভাঙনের ৫টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো:

১. ২০ দলীয় জোটের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার পর নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ২০ দলে এমন অনেক নেতা আছেন যারা রাজনীতিতে বিএনপির বর্তমানে যেকোনো নেতার চেয়ে অভিজ্ঞ। যেমন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের কথাই ধরা যাক। তিনি এলডিপির নেতা। এক সময় বিএনপির শীর্ষ নেতা ছিলেন। একমাত্র ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছাড়া বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের সবাই তাঁর জুনিয়র। বেগম জিয়ার বন্দীত্বের পর ২০ দলের একটি মাত্র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে আলোচনায় কর্নেল (অব.) অলি আহমেদই বার বার সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে উঠে আসছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা অন্য নেতারা মনে করছেন, ২০ দল সচল থাকলে নেতৃত্ব অলি আহমেদ, সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহিম কিংবা আন্দালিব রহমান পার্থর মতো জনপ্রিয় নেতাদের হাতে চলে যাবে। ২০ দলকে অকার্যকর রাখার এটি একটি বড় কারণ।

২. ২০ দলীয় জোটের শরীকদের কাছে খবর আছে যে, বিএনপি সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করছে। ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতাই জানেন, আন্দোলনের আড়ালে আসলে বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এজন্যই ২০ দলীয় জোটের শরিকরা মনে করছে, আগামী নির্বাচনে কোনো দল কয়টা আসন পাবে তা এখনই ফয়সালা হোক। কিন্তু বিএনপি এখনই আসন ভাগাভাগিতে যেতে রাজি নয়। শরীকরা বলছে, তাদের ঠকানোর জন্যই বিএনপি লুকোচুরি খেলছে।

৩. জামাতের সঙ্গে ত্যাগ করার জন্য বিএনপির উপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বারবার বিএনপিকে বলছে, গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে হলে জামাত ছাড়তে হবে। আবার জামাত ছাড়া ২০ দলীয় জোট মূল্যহীন। বিএনপি একটি ডান উদারপন্থী জোট গঠনে উৎসাহী। যেখানে বিকল্প ধারা, নাগরিক ঐক্য, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মতো দলগুলো থাকবে। কিন্তু জামাত থাকলে কেউই বিএনপির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চায়না। এজনই বিএনপি ২০ দলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।

৪. বিএনপি গোপনে সরকারের সঙ্গে নানা দেন-দরবার করছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সমঝোতার আলোচনা চলছে। এসব বিভিন্নমুখী আলোচনায় বিএনপি অন্য কাউকে যুক্ত করতে চায় না। কারণ এতে গোপনীয়তা নষ্ট হবে এবং শরিকরা বাড়তি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে।

৫. বিএনপি বলছে, শরিকদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা সরকারের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন। এদের সঙ্গে সরকারের লেনদেন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নির্বাচন প্রশ্নে ২০ দল ভাঙার চেয়ে আগেই এটি অকার্যকর হওয়া ভালো- এমন চিন্তা বিএনপির অনেক নেতারই। ২০ দল কার্যকর থাকলে শরিকরা বিভীষণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে এমন শঙ্কা অনেকের।

এই পাঁচ কারণেই ২০ দল এখন থেকেও নেই। আনুষ্ঠানিক মৃত্যুর ঘোষণা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র

বাংলা ইনসাইডার