Thursday , April 26 2018
Breaking News

‘প্রধানমন্ত্রীর ‘প্রথম মাস্তান’ আমি’

গতবারের মতো অকাল বন্যায় হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি বলেছেন, এবার বাঁধ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাকার পাশাপাশি ‘মাস্তানও’দিয়েছেন আর তিনি নিজে হলেন প্রথম মাস্তান।

বুধবার সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে এক মত বিনিময় সভায় বাঁধ রক্ষায় কঠোর নজরদারির বিষয়টি বুঝাতে মাস্তানের এই উপমা ব্যবহার করেন মন্ত্রী।

এমনিতে মাস্তান বলতে সন্ত্রাসী বুঝালেও মন্ত্রী বুঝান, তিনি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ করতে এবং যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আছেন।

২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জে হাওরে অকাল বন্যায় হাওরে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে হাওর এলাকায় দেয়া বাঁধ উপচে পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ফসলের প্রায় সব। আর এই ক্ষতি আর সামাল দেয়া যায়নি। আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় চালের দাম।

হাওরে বাঁধ আট মিটার উঁচু করা হলেও গতবার পানি এসেছে ১২ থেকে ১৪ মিটার। আবার বাঁধ উপচে আসার আগেই পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙেছে। বাঁধ না ভাঙলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কম হতো। আর এই বাঁধ ভাঙার পর সে সময় বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপার হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে ভবিষ্যতে আরও মজবুত করে বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নির্মাণকাজে দুর্নীতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেন।

এরই মধ্যে হাওরের ধান কাটার পর্যায়ে চলে এসেছে আর এর আগে বাঁধ নিয়ে গতবারের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী গেলেন সুনামগঞ্জে।

গতবার অবশ্য এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। আর বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মঞ্জু ছিলেন পরিবেল ও বন মন্ত্রণালয়ে। তবে গত জানুয়ারিতে তাদের দপ্তর বদল হয়।

হাওরের কৃষক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে এই মতবিনিময় করতেই মঞ্জু যান সুনামগঞ্জে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য টাকাও দিয়েছেন, মাস্তানও পাঠিয়েছেন। প্রথম মাস্তান আমি, এরপর সচিব, আর প্রতিমন্ত্রী তো আছেনই।’

‘আমরা সকলে মিলেই চেষ্টা করেছি হাওরের বাঁধগুলো নির্মাণের মাধ্যমে ফসল রক্ষা করার জন্য। আমি আপনাদের বলেছিলাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসব, সেটি সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি।’গো নিউজ