Thursday , April 26 2018
Breaking News

‘সাংবাদিক ভাইয়েরা দয়া করে লেখার সময় একটু হুঁশ করে লিখেন’

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তৃতার বাইরে কয়েক মিনিট বক্তৃতা করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ সময় তার বক্তৃতায় উপস্থিত সবার মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গতকালের পত্রিকাতে আসছে, অনেক পত্রিকায়— আমি পদ্মা সেতুর কাজ পরিদর্শন করেছি। ওই খানে যাওয়ার পরে জাজিরায় একটা সুন্দর রিসোর্ট আছে সেখানে এক রাত ছিলাম। শরীয়তপুরের ডিসি সাহেব ছোটখাটো একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন। ভাবলাম যে সন্ধ্যায় কোনো কাজ নেই, আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা গান-বাজনা শুনলে খারাপ কি, ভালোই তো।’

‘পরের দিন বাসায় গিয়ে পত্রিকা পড়ে দেখলাম যে, লেখা আছে রাষ্ট্রপতি সস্ত্রীক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। এ নিউজ তো আমার স্ত্রীও দেখে ফেলছেন। আসলে আমার স্ত্রী তো আমার সঙ্গে যাননি। সাংবাদিক ভাইয়েরা তো আজকেও আছেন, দয়া করে লেখার সময় একটু হুঁশ করে লিখেন। মানুষের সংসারের মধ্যে গোলমাল লাগিয়ে দেওয়া তো ঠিক না। আর বিশেষ করে এই বয়সে, একটা বয়স তো আছে, যে বয়সে গোলমাল লাগলে একটা না একটা সুরাহা করা যায়। কিন্তু এ বয়সে তা করার কোনো উপায় নেই’, বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘আজকে কি হইছে জানেন, আজকে আমি আর খুলনায় একা আসতে পারিনি। আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীও এসেছেন। তবে উনি এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানস্থলে আসেননি, উনি উপাচার্যের বাসায় আছেন। ভিসি সাহেবের বাসায় থেকে উনি শান্তিতে আছেন এমন মনে করি না। কারণ এ সভার মধ্যে তার এক ছেলের বউকে পাঠিয়ে দিয়েছেন, দেখার জন্য যে আমি এখানে কী করি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ সময় তিনি বলেন, ‘সুতরাং সাংবাদিক ভাইরা আপনারা তো অনেক কিছুর মধ্যে গোলমাল লাগাতে পারেন, তবে এ ধরনের অনর্থক গোলমাল লাগিয়ে অন্যের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করা কোনো অবস্থাতেই ঠিক না।’

রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে শ্রোতারা মুহুর্মুহু করতালি দেন এবং উপস্থিত সবার মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

পরে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি আর কিছু সময় বক্তৃতা দিলে তো হাততালি আসবে। কিছু হাততালি দিয়ে বোঝানো হয় আপনার বক্তৃতা শেষ করেন। তাই আমি বক্তৃতা বেশি দীর্ঘ করব না।’ রাষ্ট্রপতির এ কথা শুনেও কেউ হাসি থামাতে পারেননি।

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং তাদের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে লিখিত বক্তৃতার বাইরে কথা বলে হাস্যরসের জন্ম দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।