Monday , April 23 2018

‘সালমান মুসলিম তাই কারাদণ্ড হয়েছে’

বলিউড অভিনেতা সালমান খানের কারাদণ্ড হওয়ায় তার কোটি কোটি সমর্থকের মতো হতাশ হয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফও।

সালমানের দণ্ড হওয়ার পেছনে একটি বিস্ময়কর যুক্তি দেখিয়েছেন খাজা আসিফ। সালমানের ভাগ্যকে দোষারোপ করে তিনি বলেছেন, ‘খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে কারণ তিনি মুসলিম।’

পাকিস্তানের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল জিয়ো টিভির ‘ক্যাপিটাল টক’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হামিদ মিরের সঙ্গে আলোচনাকালে এ মন্তব্য করেন খাজা আসিফ।

খাজা আসিফ বলেন, ‘বিশ বছর আগের একটি মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করায় এটা প্রমাণিত হয় যে, ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম এবং খ্রিস্টানরা মূল্যায়িত হন না।’

পাকিস্তানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘তিনি যদি ক্ষমতাসীন দলের ধর্মের অনুসারী হতেন, তবে তাকে এত বড় শাস্তি দেওয়া হতো না এবং আদালতও তার সঙ্গে কোমল আচরণ করত।’
১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য এই মামলার আসামিরা যোধপুরে গিয়েছিলেন। সেখানে শুটিং চলাকালে ১ ও ২ অক্টোবর রাতে যোধপুরের কাঙ্কিনি গ্রামে তারা দুটি বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ওই বছরের অক্টোবরেই সালমান, সাইফ, নীলম, টাবু ও সোনালির বিরুদ্ধে মামলা হয়।

মামলার চূড়ান্ত পর্বের শুনানি শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৩ অক্টোবর। ২৪ মার্চ দুই পক্ষের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শেষ হয়। এরপর ২৮ মার্চ যোধপুরের দেব কুমার খাতরির আদালত ৫ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে।

এর আগেও ২০০৬ সালে এই মামলায় হরিণ হত্যার দায়ে সালমানকে যোধপুরের আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ডসহ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল। পরে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেন। ওই আপিলের রায় আজ দেওয়া হলো।

salman
আদালতের রায়ে সালমান খানের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে। তবে মামলার অন্য আসামি সাইফ আলি খান, নীলম, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনের ৫১তম ধারা অনুযায়ী সালমানকে দণ্ড দেওয়া হয়।