Wednesday , April 25 2018
Breaking News

মাত্র সাড়ে চার টাকার জন্য সোনাগাছি পতিতালয়ে এত বড় ঘটনা!

পতিতালয়ে এত বড় ঘটনা- মাত্র সাড়ে চার টাকার জন্যঃ অভাব মাত্র চার টাকা ৫৫ পয়সার৷ আর, তার জেরেই সুরক্ষিত থাকতে পারছেন না সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিরা৷

সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা অবশ্য হয়েছিল বছর দু’য়েক আগে৷ কিন্তু, যেখানে মাত্র ৪৫ পয়সায় কাজ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত চার টাকা ৫৫ পয়সা কেন খরচ করবেন তাঁরা?

কারণ, অতিরিক্ত ওই টাকা খরচ করতেও তাঁরা সমস্যায় পড়েন৷ যে কারণে কল্লোলিনী এই তিলোত্তমার অন্যতম যৌনপল্লি সোনাগাছির যৌনকর্মীরা সুরক্ষিতও থাকতে পারছেন না৷ কেন?

কারণ, কোনও কাস্টমারকে একবার খুশি করতে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের খরচ হয় মাত্র ৪৫ পয়সা৷ একটি কন্ডোম কেনার জন্যই ওই ৪৫ পয়সা খরচ করতে হয় তাঁদের৷

নিজেদের কিনতে হলেও, কাস্টমারকে অবশ্য ওই কন্ডোম ফ্রি-তেই দেন তাঁরা৷ কাজেই, কোনও কাস্টমারকে একবার খুশি করতে যদি ৪৫ পয়সার পরিবর্তে পাঁচ টাকা অর্থাৎ, অতিরিক্ত আরও চার টাকা ৫৫ পয়সা খরচ করতে হয়, তা হলে সমস্যায় পড়তে হয় সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের৷

তার উপর কোনও কাস্টমারকে যদি একই সঙ্গে একাধিকবার খুশি করতে হয়, তা হলে তো সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সমস্যা আরও বেড়ে যায়৷ কারণ সেই একই৷ অতিরিক্ত খরচ৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷

প্রতিদিন যেভাবে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের সামলাতে হয় একের পর এক কাস্টমারকে, তাতে তাঁদের প্রতিদিনের অতিরিক্ত খরচও অনেকটাই বেড়ে যায়৷ এ দিকে, প্রতিদিনের রোজগার থেকে ঘর ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট যে টাকা তাঁদের হাতে থাকে, তাতে এমনিতেই উদ্বিগ্ন থাকতে হয় তাঁদের৷

কাজেই, সোনাগাছির অনেক মেয়েই তাঁদের নিজেদের সুরক্ষার কথা মনে রাখলেও, অতিরিক্ত ওই চার টাকা ৫৫ পয়সা তাঁরা আর খরচ করতে চান না৷ অতিরিক্ত ওই টাকা খরচ করতেও কার্যত তাঁরা অপরাগ৷কীসের জন্য অতিরিক্ত ওই সাড়ে চার টাকারও বেশি খরচের প্রয়োজন রয়েছে?

কারণ একটিই৷ সেটি হল, ফিমেল কন্ডোম৷ সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিরা যে ফিমেল কন্ডোম ব্যবহার করবেন, তার প্রতিটির দাম পাঁচ টাকা৷ প্রতিটি ফিমেল কন্ডোম পাঁচ টাকা দিয়ে তাঁদের কিনতে হবে৷

তার পর নিজেদের তা ব্যবহার করতে হবে৷ এ দিকে, এইচআইভি/এইডসের বিষয়ে আগের তুলনায় সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তা সত্ত্বেও, এখনও সোনাগাছির কাস্টমারদের একাংশ কন্ডোম ছাড়াই যৌনসুখ পেতে বেশি পছন্দ করেন৷ ফলে, ওই কাস্টমাররা কন্ডোম নিতে চান না৷

সেক্ষেত্রে ফিমেল কন্ডোম ব্যবহার হলে, ওই কাস্টমাররা সাধারণত তা বুঝতেও পারবেন না৷ ফলে, সুরক্ষিত থাকতে পারবেন সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিরা৷

শুধু তাই নয়৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার কলকাতার অন্যতম যৌনপল্লি সোনাগাছির যৌনকর্মীরাও কন্ডোম ব্যবহার করেন না৷ কাস্টমারকে যৌনসুখ দেওয়ার আগে অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য যেমন কন্ডোম ব্যবহারের কথা মনে রাখতে পারেন না সোনাগাছির অনেক যৌনকর্মী৷

তেমনই আবার, কাস্টমার হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আতঙ্কেও সোনাগাছির অনেক যৌনকর্মী কন্ডোম ব্যবহারও করেন না৷ এই ধরনের বিষয়টি সাধারণত দেখা যায় সোনাগাছির বেশি বয়সি যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে৷

যে কারণে, বাজার খারাপ থাকার জন্য অনেক সময় বয়স হয়ে যাওয়া ওই যৌনকর্মীরা ৪৫ পয়সার কন্ডোমও কিনতে পারেন না৷ এমন ক্ষেত্রেও অসুরক্ষিত থেকে যেতে হচ্ছে সোনাগাছির ওই মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের৷

তা হলে কি অসুরক্ষিতই থেকে যেতে হবে তাঁদের? সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব ভারতী দে-র কথায়, ‘‘বছর দু’য়েক আগে ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল৷

বছর দেড়েকের মতো ওই প্রচেষ্টা জারি ছিল৷ কিন্তু, প্রতিটি ফিমেল কন্ডোমের দাম পাঁচ টাকা৷ যেখানে ৪৫ পয়সায় কাজ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত খরচ করে প্রতিটি ফিমেল কন্ডোম পাঁচ টাকা দিয়ে মেয়েরা কিনতে চান না৷

কারণ, তাতে তাঁরা সমস্যায় পড়েন৷’’ একই সঙ্গে ভারতী দে বলেন, ‘‘যে জন্য এখন আর ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার হচ্ছে না সোনাগাছিতে৷ অথচ, ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার হলে মেয়েরা সুরক্ষিত থাকতে পারতেন৷’’

শুধু তাই নয়৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব বলেন, ‘‘বছর দু’য়েক আগে যখন ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার শুরু হয়েছিল, সে সময় সোনাগাছির ৬০ শতাংশ মেয়ে তা ব্যবহার করতেন৷’ অর্থাৎ, ফিমেল কন্ডোমের ব্যবহার শুরু হলেও, সোনাগাছির প্রতিটি যৌনকর্মী তা আবার ব্যবহারও করতেন না৷

যদিও, ফিমেল কন্ডোম ব্যবহারের পাঠও দেওয়া হয়েছিল সোনাগাছির মেয়েদের৷ সব মিলিয়ে, প্রতিবার যৌনসুখের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার টাকা ৫৫ পয়সার অভাবেই এখন অসুরক্ষিত থেকে যেতে হচ্ছে সোনাগাছির মাধবী-মালতী-বিউটি-সুইটিদের৷