Thursday , April 26 2018
Breaking News

ভুল সুধরে ঠিক কবরে ফিরল ফয়সাল-নাজিয়ার লাশ(ভিডিও)

অবশেষে নিজ ঠিকানায় সমাহিত হলেন নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ।

আদালতের নির্দেশ নিহত সাংবাদিক ফয়সাল এবং নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর বদল হওয়া মরদেহ শরীয়তপুরের ডামুড্যা এবং ঢাকার বনানী কবরস্থান থেকে তোলা হয় বৃহস্পতিবার রাতে। এরপর ঢাকা থেকে নিয়ে আসা ফয়সাল আহমেদের মরদেহটি রাতেই জানাজা শেষে একই স্থানে দাফন করা হয় শরীয়তপুরে ডামুড্যা গ্রামে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফয়সালের বাড়ি থেকে নাজিয়ার মরদেহটি উত্তোলন করে ভাই আলী আহাদ চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজী আক্তার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত থেকে মরদেহটি হস্তান্তর করেন। মরদেহটি ঢাকায় এনে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত হন ২৬ বাংলাদেশি। এর কয়েকদিন পর ২০ মার্চ তাদের লাশ নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশে। ২০ মার্চ ফয়সালের লাশ গ্রহণ করেন তার মামা কায়কোবাদ। শরীয়তপুরে ডামুড্যা গ্রামে নেওয়ার পর জানাজা শেষে যখন কবর দেওয়ার জন্য কফিন থেকে লাশ বের করা হয় তখন দেখেন, এটি তার ভাইয়ের লাশ নয়। লাশটি পলিথিনে মোড়ানো ছিল। সেখানে লেখা ছিল নাজিয়া আফরিন চৌধুরী। কিন্তু পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কায় নাজিয়ার লাশ সেদিন সেখানেই দাফন করা হয়।

আর এদিকে ফয়সালের মরদেহ নাজিয়ার মরদেহ ভেবে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে। ঢাকার সূত্রাপুরের টিপু সুলতান রোডের মৃত আলী আকবর চৌধুরীর মেয়ে নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর মরদেহ মনে করে সাংবাদিক ফয়সালের মরদেহ দাফন করে নাজিয়ার স্বজনরা।

বিষয়টি উভয় পরিবার জানার পর মরদেহ উত্তোলন করে যার যার নির্ধারিত স্থানে নতুন করে দাফনের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়ে ঢাকার আদালতে আবেদন করে ফয়সালের পরিবার। অন্যদিকে শরীয়তপুর আদালতে আবেদন করে নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর পরিবার।

দুই পরিবারের অবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ দুটি তুলে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়।