Thursday , April 26 2018
Breaking News

রাস্তায় দৌড়ে দৌড়ে পিটাব : অধ্যক্ষকে ছাত্রলীগ নেতা রনি

চট্টগ্রামের বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ খানের কাছ থেকে এক বছরে ১০ লাখ চাঁদা নিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।

আরও ২০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য বেশ কিছুদিন থেকে জাহেদকে রনি হুমকি দিয়ে আসছিলেন। টাকা না দেয়ায় ৩১ মার্চ কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষ জাহেদকে মারধর করা হয়।

বুধবার রাতে নগরীর চকবাজার থানায় রনিকে প্রধান আসামি করে চাঁদাবাজি করেছেন জাহেদ। জাহেদকে ফোনে রনি হুমকি-ধমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করত; বলত ‘আমি রাস্তায় দৌড়ে দৌড়ে পিটাব।’

এমন দুটি ফোনকলের ভয়েস রেকর্ড যুগান্তরের হাতে এসেছে। মামলার এজাহারে রনিসহ সাতজন এবং অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- মুজিবুর রহমান রাসেল, তানভির মেহেদি মাসুদ, নেওয়াজ শরীফ অমি, আরিফুর রহমান মাসুদ, কিরণ ও নুরুল হুদা মিঠু।

তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং জাহেদের ওপর হামলার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তরের হাতে আসা অডিও ক্লিপ দুটির একটি ৪ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ও অপরটি ২২ সেকেন্ডের। অডিও ক্লিপ দুটিতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রনি ও জাহেদের কথোপকথন।

প্রথম অডিও ক্লিপের কথোপকথন :

রনি : তুঁই কেনে (লেখার অযোগ্য) শান্তিতে থাক আই চায়ুম। কিছু পারি, ন পারি তোরে শান্তি ন দিয়ুম। আই অশান্তিতে থাইককুম ত আঁয় (লেখার অযোগ্য) কেউরে শান্তি ন দিয়ুম। তুয়ারতোন বড় মানুষেরে শান্তি ন দির আঁই। আই কিছু পারি না পারি অশান্তি গরি দিয়ুম। অর্থাৎ তুমি কী করে শান্তিতে থাক আমি দেখে নেব। আমি কিছু পারি না পারি তোমাকে শান্তিতে থাকতে দেব না। সবকিছু অশান্তি করে দেব।

জাহেদ : আঁরে। রনি সাব, প্লিজ। অনে আরে ভুল ন বইজ্জুন। আজই অনের লয় দেহা গইরগম। অর্থাৎ রনি সাহেব প্লিজ। আমাকে ভুল বুঝবেন না। আজই আপনার সঙ্গে দেখা করব।

রনি : জাহেদ সাব। জাহেদ সাব। তুঁই (লেখার অযোগ্য গালিগালাজ) দুই মাসেও দেহা গরিত ন পার। অর্থাৎ দুই মাসেও দেখা করতে পার নাই এখন কী আর দেখা করবে।

দ্বিতীয় অডিও ক্লিপের কথোপকথন :

রনি : ধানমণ্ডি জায়গা কিনছেন, বিল্ডিং করছেন।

জাহেদ : না না, কোনো জায়গা কিনি নাই। ভাড়ায় থাকি। আমি ঢাকায়।

রনি : ভুয়া ডিগ্রি একটা আমেরিকা থেকে এনেছেন। এখন ঢাকায় কি করেন এটা বলেন।

জাহেদ : না না, শুনেন শুনেন আমি বলি। আমার ডিগ্রি ভুয়া হলেও অসুবিধা নেই। আমি প্রাইভেট মানুষ। আমার ডিগ্রি একশটা ভুয়া হলেও অসুবিধা নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করছি। নাকি। আপনাদের নেতা মাহমুদ হাসান চৌধুরী আমার বেসমেট ছিলেন।

রনি : অসুবিধা নেই তো? আমি প্রকাশ করলে অসুবিধা নেই তো?

জাহেদ : হ্যাঁ, করেন অসুবিধা কি? আমার ডিগ্রি ভুয়া কিনা তখন দেখব।

রনি : ঠিক আছে। ওয়েট অ্যান্ড সি। কালিয়া (কালকে) পেপারত (সংবাদপত্রে) দিয়ুম (দেব) বিজ্ঞাপন আকারে। এখন আবার নতুন করে ফেসবুকে দিয়েছেন?

জাহেদ : না না নতুন কিছু দিই না। শুনেন আমি আপনাকে বুঝায় (বুঝিয়ে) দিই।

রনি : ওইদিন কেন সমাধানের কথা বলেছেন।

জাহেদ : পথ ওটাতে সমাধানের পথ তো আছে। আরও তিন মাস সময় আছে। আমরা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি…।

রনি : সমাধান করে আর লাভ নেই। টাকাগুলো ফেরত দিবেন। সাইনবোর্ডটা নামিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে চলে যাবেন। মানুষকে ফোন করে করে যা বলেছেন তা সব রেকর্ডিং আছে। আপনার সঙ্গে আমি ব্যক্তিগত সমস্যায় যেতে চাই না। আপনার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাইন্ড নিয়েও প্রশ্ন করছি না। কাকে কি বলছেন এসব নিয়েও প্রশ্ন করছি না।

জাহেদ : না না, আমাদের সময় আছে নাকি। আমার ছেলেটা অসুস্থ তো। তাই ঢাকায় চলে আসছি। পাবলিক প্রতিষ্ঠান চালানো অনেক কষ্টকর। অনেক কষ্টে এ প্রতিষ্ঠান করেছি। অনেক এমপ্লয়ির রিজিক এখানে। আপনাকে লিজ দেব। আপনি চালান।

রনি : (আঞ্চলিক ভাষায় গালিগালাজ করে) আপনি ফেলে চলে যান। সবাইকে চাকরি আমি দেব। আপনি ওইদিন সমঝোতা করছেন না? আবার ফেসবুকে ওইসব কি দিয়েছেন?

জাহেদ : এখন যারা টাকা-পয়সা নিয়ে যেতে চায় তাদের দিয়ে দেব…।

রনি : যারা টাকা-পয়সার দিকে যেতে চায় তারা টাকা নিবে, আর যারা নিতে চায় না তারা নিবে না, শেষ তো।

জাহেদ : শেষ তো শেষ তো।

রনি : আর আপনি কোনো স্টুডেন্টকে টাকা দিবেন না। টাকা দিবেন অভিভাবককে। মাঝখানে আবার এগুলো কি ঢুকাইলেন। ভাঁওতাবাজিগুলা। আমি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আজকেও দেখা করেছি কিন্তু। আপনার প্রতিষ্ঠানের বারোটাই বাজাব আমি। মন্ত্রণালয়ের নিয়ম লাগবে না। নিচে দাঁড়িয়ে থাকব তো উপরে কেমনে যাস দেখব।

জাহেদ : আচ্ছা ওটা ভালো হলে ওটা করে দেব। অসুবিধা নেই। ওটা তো আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে…।

রনি : আপনি যা বলছেন তা করবেন। আপনি প্র্যাকটিকেলের জন্য ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন, এটা নিয়ে আবার কোর্টে গেছেন, এটা আবার শিক্ষা বোর্ডে আনছেন। প্লিজ ভাই। টাকা নিয়ে কোর্টে যাবেন না। আমি কিছু করব না। আমি রাস্তায় দৌড়ে দৌড়ে পিটাব। আপনি শিক্ষকও নন, আপনি কুলাঙ্গার। -গো নিউজ