Thursday , April 26 2018

চাহিদা ও পকেটের উপর ভিত্তি করে রাতের সঙ্গী যোগাচ্ছে ওয়েবসাইট

সেক্স ট্র্যাফিকিং মোকাবিলা করার জন্য এবার চ্যালেঞ্জ নিল একটি ওয়েবসাইট৷ একটি মিথ্যে ওয়েবসাইট মেয়েদের “every taste and pocket” একটি অফার দিল৷ আর প্রথম দিনে ১ হাজার গ্রাহক পেল তারা৷

StayUncle নামে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে৷ এটি অবিবাহিত দম্পতিদের কোনও ঝামেলা ছাড়াই হোটেল বুকিং করে দেয়৷ তারাই একটি মিথ্যে সাইট এনেছে৷ নাম staylaid.com৷ সম্প্রতি যৌনকর্মী কেনার জন্য ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে অনুরোধ ক্রমশ কমে আসছে৷ তা রুখতেই এই ভুয়ো সাইট চালু করেছে তারা৷ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি মাসে তারা প্রায় ৩ হাজার ফোন পায়৷ প্রতিটি ফোনই কোনও না কোনও ক্লায়েন্টের৷ ফোন করে তারা সেক্স পার্টনার সহ রুম চায়৷ এই কথাবার্তাটাই চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় তারা৷ StayUncle সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সঞ্চিত শেঠি জানিয়েছেন, মানুষকে তাঁরা দেখাতে চান সেক্স ট্রাফিকিংয়ের আসল সমস্যা কোথায়৷ কীভাবে মানুষ আক্রান্ত হয়৷ আর এটি নিজেদের বোঝার জন্য ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করা ছাড়া তাদের কাছে কোনও রাস্তা ছিল না৷ এর ফলে প্রযুক্তির সাহায্যে তারা আসল তথ্য পর্যন্ত পৌঁছতে পারবেন৷

২০১৬ সালে মানব পাচার নিয়ে ৮ হাজারটি মামলা জমা পড়েছে৷ তার আগের বছরের থেকে এটি ২০ শতাংশ বেশি৷
এই ওয়েবসাইটে প্রায় ১২ জন মেয়ের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে৷ সেখানে দেওয়া হয়েছে তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যও৷ এর ফলে কিছু মানুষ সাময়িকভাবে যোগ দিয়েছিল৷ কিন্তু অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মতো অঞ্চলগুলি থেকে অনেক দালাল এখানে এসেছে৷ বড় স্বপ্নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা৷ Staylaid.com বলেছে, প্রত্যেক স্বাদ, চাহিদা ও পকেটের জোর অনুসারে তাদের কাছে মেয়ে রয়েছে৷ এই ট্যাগ দিয়েই মানুষের পাশবিক প্রবৃত্তিকে উসকে দেয় তারা৷
এখানে সাবস্ক্রাইব করলেই সাবস্ক্রাইবারদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ইমেল৷ সেখানে বলা হচ্ছে, মহিলাদের জোর করে এদেশে যৌন দাসত্ব করতে বাধ্য করা হয়৷ গ্রাম্য এলাকায় অনেক দরিদ্র মেয়েদের চাকরির টোপ দিয়ে নিয়ে আসা হয়৷ তারপর তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়৷ নামিয়ে দেওয়া হয় দেহ ব্যবসায়৷ কখনও আবার তাদের ইট ভাঁটা বা বাড়ির কাজের লোকের কাজেও নামিয়ে দেওয়া হয়৷
সোশ্যাল মিডিয়াতেও StopWomenTrafficking নামে একটি হ্যাশট্যাগ চালু করেছে তারা৷ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এটি ছিল ট্রেন্ডিং৷ সঞ্চিত শেঠি জানিয়েছেন, ট্যুইটারে এত মানুষ এই বিষয় নিয়ে কথা বলছেন দেখে তিনি অবাক৷ কিন্তু ঘটনা হচ্ছে মানুষ এনিয়ে কথা বলতে চায়৷ এটি বন্ধ করতে চায়৷ অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং চ্যারিটি Impulse NGO Network-এর প্রতিষ্ঠাতা হাসিনা খারভিহ জানিয়েছেন, StayUncle-এর এই প্রচেষ্টা ক্যাম্পেনগুলো আরও কাছ থেকে করতে পারবে৷ এই পরিকল্পনাটি অসাধারণ৷ এর ফলে মানব পাচার আটকানো যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি৷